ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।আলী ফাদাভি বলেন, ‘আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে। এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। ইসলামিক রিপাবলিক ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর শক্তির কারণেই তারা এমনটা করতে বাধ্য হয়েছে।’ফাদাভি আরও দাবি করেন, প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এবং এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন নৌযান নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তার কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার ক্ষেত্রে ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেও মন্তব্য করেন ফাদাভি। তার ভাষ্য, কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনো অঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়; এর জন্য স্থল ও সমুদ্রপথে সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন।তবে আইআরজিসি কমান্ডারের এসব দাবির পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।সেন্টকম এর আগে জানিয়েছিল, ইরানের বন্দরমুখী ও ইরান থেকে বের হওয়া সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র জুলাই থেকে পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও গতিপথ পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও এখনো মুখোমুখি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সম্প্রতি বলেছেন, তেহরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না।ফলে মার্কিন বাহিনী ইরানের সীমান্ত থেকে ঠিক কতটা দূরে সরে গেছে এবং পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর বর্তমান উপস্থিতি কতটা—এসব বিষয়ে ফাদাভির দাবিকে ইরানের পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
/বিএসএস