• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম


ই’রানে দ্বিতীয় রাতের মা’র্কিন বিমান হা’মলার পর ‘দাঁতভাঙা জবাবের’ হুঁ’শিয়ারি তেহরানের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ জুলাই ২০২৬ ৯:২৪ এএম

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে ইরানে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অতিরিক্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন ইরানি সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আগের দিন ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো বোমা হামলার জবাব হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইরান যদি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ওয়াশিংটনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক জবাব দেবে।

ভ্যান্সের ভাষ্য, আগের সমঝোতা অনুযায়ী ইরান জাহাজে হামলা বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিত। কিন্তু ইরান সেই শর্ত মানেনি। তাই মার্কিন বাহিনী আরও জোরালোভাবে পাল্টা আঘাত হানবে।

অন্যদিকে মার্কিন হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া সিরিক বন্দরে দুটি এবং জাস্ক বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় আরও দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলাবারুদের আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।

তেহরান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাস ও সিরিকের পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিশ দ্বীপেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। সেখানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী চাবাহারে বিস্ফোরণের পাশাপাশি ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যা আগের রাতের তুলনায় হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এবং খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক সদর দপ্তর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন এই হামলাকে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

একই সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

/এসএন