• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ এএম


দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণ ইউরোপ, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হাজারো মানুষ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুলাই ২০২৬ ১১:২৪ পিএম

তীব্র তাপপ্রবাহের পর এবার ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন এলাকা বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে কর্তৃপক্ষ একে ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করেছে। এমনকি দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্সেও।

এ পর্যন্ত দক্ষিণ ইউরোপের চার দেশে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক হাজার দমকলকর্মী, শত শত অগ্নিনির্বাপণ যান এবং একাধিক উড়োজাহাজ কাজ করছে। তবে সোমবার (৬ জুলাই) আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রবল বাতাস এবং নতুন তাপপ্রবাহের কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা বিরাজ করছে ফ্রান্সের স্পেন সীমান্তবর্তী পিরেনিজ অঞ্চলে। সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। আগুনে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যরে নুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বর্তমানে দেশটির পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকায় দাবানল সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মৌসুমে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য তারা খুব অল্প সময় পেয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কাতালোনিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘লেস গাভারেস’-এর বড় অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কাস্তেলন প্রদেশের ‘সিয়েরা দে এস্পাদান’ জাতীয় উদ্যানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের ভউজিলা এলাকায় কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা দাবানলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটির পাশাপাশি স্পেন ও ইতালিও সহায়তা পাঠিয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, আগুনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু এলাকায় এখনো ঝুঁকি রয়ে গেছে।

গ্রিসেও দাবানলের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের থেসালোনিকিতে বনের আগুন ছড়িয়ে দুটি কারখানা পুড়ে গেছে, যার একটি ছিল প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার কারখানা। বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলেও নতুন একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে শতাধিক দমকলকর্মী ও অগ্নিনির্বাপণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

দাবানলের প্রভাব পড়েছে ট্যুর ডি ফ্রান্সের তৃতীয় ধাপেও। নিরাপত্তার স্বার্থে ফিনিশিং লাইনের আশপাশে দর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রতিযোগী ও জরুরি সেবার যানবাহনকে ওই এলাকায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জলবায়ুবিষয়ক গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।

/এসএন