• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম


মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরি নাই’, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মহিউদ্দিনের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ জুন ২০২৬ ৬:২৬ পিএম

মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সোমবার (১৫ জুন) এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিয়েছেন হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ডা. শেখ মহিউদ্দিন।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরি নাই।”

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ডা. শেখ মহিউদ্দিন জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিয়ে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো হাসপাতালের ভেন্টিলেশন সিস্টেম নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা বেকারিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর থেকে নতুন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে হাসপাতালে এখনও কয়েকজন সংকটাপন্ন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা আজ আদ্-দ্বীনের পক্ষে কথা বলে।”

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে সেদিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

পরে ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও হাসপাতালে কার্যকর কোনো জরুরি চিকিৎসা প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা ছিল না। ওই সময় কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকাদের মধ্যেও চরম অবহেলা ও অসহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে।

শোকজের জবাব পর্যালোচনা শেষে গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।/এএসএফ