• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪০ পিএম


কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম চেনার সহজ উপায়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ মে ২০২৬ ১০:২৮ পিএম

গরমের মৌসুমে বাজারে উঠেছে নানা জাতের আম। তবে প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের পাশাপাশি বাজারে এখনো ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো আম বিক্রি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কৃত্রিমভাবে পাকানো এসব আম স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম চেনার উপায় জানা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাছপাকা বা প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম সাধারণত রাসায়নিকমুক্ত হয় এবং মানবদেহের জন্য নিরাপদ। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত পাকানো আমে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাস খুব দ্রুত আমের রং পরিবর্তন করে হলুদ করে ফেলে। তবে এতে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে, যা শরীরে প্রবেশ করলে বমি, পেটের সমস্যা, ত্বকের ক্ষতসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এ কারণেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ লক্ষণ দেখলেই কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম সহজে শনাক্ত করা সম্ভব।

রং দেখে বুঝুন

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত সবুজ ও হলুদ রঙের মিশ্রণ থাকে। পুরো আমে একরকম রং দেখা যায় না। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দেখায় এবং প্রায় পুরো ফলেই একই ধরনের কৃত্রিম হলুদ রং থাকে।

ঘ্রাণে মিলবে আসল পরিচয়

আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুঁকলে যদি স্বাভাবিক মিষ্টি সুবাস পাওয়া যায়, তাহলে সেটি সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে পাকা। তবে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় কোনো ঘ্রাণ থাকে না কিংবা ঝাঁজালো রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

ভেতরের অংশ দেখে বুঝুন

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে ভেতরের অংশ সাধারণত গাঢ় হলুদ বা জাফরানি রঙের হয় এবং নরম থাকে। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আম বাইরে থেকে নরম মনে হলেও ভেতরে ফ্যাকাশে, শক্ত বা রাবারের মতো হতে পারে।

পানিতে ভাসে কি না পরীক্ষা করুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সবচেয়ে সহজ পরীক্ষাগুলোর একটি। একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে আম ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম সাধারণত পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো অনেক আমের ভেতরে বাতাসের পকেট তৈরি হওয়ায় সেগুলো পানিতে ভেসে থাকতে পারে।

অতিরিক্ত চকচকে আমে সতর্ক থাকুন

স্বাভাবিকভাবে পাকা আমের গায়ে ছোটখাটো দাগ বা খুঁত থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক বিষয়। তবে অতিরিক্ত মসৃণ, চকচকে ও একেবারে নিখুঁত দেখানো আম অনেক সময় কৃত্রিমভাবে পাকানো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, আম কেনার পর খাওয়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ দূর হতে পারে।

এ ছাড়া একেবারে পাকা আম কেনার পরিবর্তে কাঁচা আম কিনে বাড়িতে খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা চালের পাত্রে রেখে স্বাভাবিকভাবে পাকানো নিরাপদ উপায় বলে মনে করছেন তারা।

তাদের মতে, রাস্তার পাশের অচেনা দোকানের বদলে পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনাই ভালো। কারণ শুধু দেখতে আকর্ষণীয় হলেই যে তা নিরাপদ হবে, এমন নয়। সামান্য সচেতনতাই পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

/এসএন