• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম


হামে আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করাও, সবচেয়ে ঝুঁকিতে গর্ভবতী নারীরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ মে ২০২৬ ৯:০৩ এএম

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় এখন শুধু শিশুরাই নয়, বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশজুড়ে হামের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগে ব্যাপক সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। একই সঙ্গে ভাইরাসের বিস্তারের কারণে প্রাপ্তবয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সময়মতো হামের টিকা দেওয়া হলে এভাবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ত না এবং আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও কম থাকত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাতজন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এবং সহস্রাধিক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশব্যাপী হামের এই প্রাদুর্ভাব আরও অন্তত এক মাস অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করায় আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন শিশু। এর মধ্যে মোট ৭ হাজার ২৪ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ শিশু। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ৪২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তার প্রাইভেট চেম্বার এবং হাসপাতালে প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগী আসছেন। তবে তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা তিনি এখনো দেখেননি।

তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এজন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শে গেলে সতর্ক থাকার কথা বলেন এই চিকিৎসক।

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ আরও বলেন, গর্ভবতী নারী হাম আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশুর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে জন্মগত ত্রুটি, হৃদরোগ কিংবা শিশুর বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিবারের কোনো শিশু বা আশপাশে কেউ হামে আক্রান্ত হলে গর্ভবতী নারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ও ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, হামের এই প্রাদুর্ভাব গর্ভবতী মায়েদের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি তাদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোসতাক হোসেন বলেন, ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কারণেই এখন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। যদিও বড়দের মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক কম। তিনি আরও জানান, বড়দের জন্য বছরে একবার হাম-রুবেলার টিকা নেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের সময়মতো টিকা না দেওয়ার কারণেই দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তার মতে, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে পারলে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে আসবে।

/এসএন