• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ পিএম


শরীরের কোন ব্যথা কিডনি সমস্যার সংকেত হতে পারে?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ মে ২০২৬ ৭:২৬ পিএম

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিডনির সমস্যা শুরু হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় শরীরে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে কিছু শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে, যা অবহেলা করা ঠিক নয়।

কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়া। এছাড়া শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা এবং হাড় সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কিডনি।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তখন শরীরে নানা ধরনের সমস্যা ও উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কিডনি রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সারাক্ষণ দুর্বল বা ক্লান্ত অনুভব করা, পা, গোড়ালি কিংবা চোখের নিচে ফোলাভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ, রঙ বা গন্ধে পরিবর্তন এবং ফেনাযুক্ত প্রস্রাব। এছাড়া ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, বমি, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা চুলকানি, রাতে পেশিতে টান ধরা, ঘুমের সমস্যা কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, শরীরে পানি জমে শ্বাসকষ্ট হওয়া, জ্বর বা ঠান্ডা লাগা এবং চোখ ও পায়ের পাতায় ফোলাভাবও কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, কোমর ও পিঠে ব্যথাও কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা সাধারণ কোমর ব্যথার মতো মনে হলেও এর অবস্থান ও ধরনে কিছু পার্থক্য থাকে। সাধারণত পিঠের নিচের অংশে, পাঁজরের ঠিক নিচে কিংবা কোমরের দুই পাশে এই ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় ব্যথা নিচের পেট, কুঁচকি বা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

এই ব্যথা কখনো হালকা চাপের মতো অনুভূত হয়, আবার কখনো গভীর ও তীব্র হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনিতে পাথর হলে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে কিডনিতে সংক্রমণ হলে ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

প্রস্রাবের কিছু পরিবর্তনও কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যেমন—ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা একেবারে কমে যাওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা দুর্গন্ধ, প্রস্রাবের রঙ লালচে বা ঘোলা হয়ে যাওয়া। কখনো কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি ব্যথা ১ থেকে ২ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায় অথবা জ্বর ও ঠান্ডা লাগার সঙ্গে ব্যথা থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগের উপসর্গ অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসাও তুলনামূলক সহজ হয়।

/এসএন