কোমর ব্যথা বলে আমরা যেটাকে অনেক সময় অবহেলা করি, সেটাই হতে পারে মেরুদণ্ডের ভেতরের স্নায়ুর ওপর সরাসরি চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
এই ছবিতে যে সমস্যাটি বোঝানো হয়েছে, সেটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় হার্নিয়েটেড ডিস্ক।
আমাদের মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর মাঝখানে নরম জেলির মতো একটি অংশ থাকে, যা কুশনের মতো কাজ করে। হাঁটা, বসা, ঝুঁকে কাজ করা, দৌড়ানো—সব ধরনের নড়াচড়ার সময় এটি চাপ সহ্য করে।
সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন এই নরম অংশটি নিজের জায়গা থেকে সরে গিয়ে বাইরে বের হয়ে আসে এবং পাশের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
শুরুর দিকে এটি সাধারণ কোমর ব্যথা মনে হলেও ধীরে ধীরে ব্যথা কোমর থেকে নিতম্বে ছড়িয়ে পড়ে, এরপর পা পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। তখন অনেকেই বলেন—
“পায়ে ঝিনঝিনি লাগে”,
“কারেন্টের মতো শিরশির করে”,
“এক পায়ে টান লাগে”,
“দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না”।
কারণ তখন শুধু মাংসপেশি নয়, সরাসরি স্নায়ুর ওপর চাপ তৈরি হয়। এই অবস্থায় স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ব্যথা তার পথ ধরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পায়ে দুর্বলতা আসতে পারে, হাঁটাচলায় সমস্যা হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শুধু ব্যথার ওষুধ বা মালিশ করে সময় পার করেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে স্নায়ুর ওপর চাপ বাড়তেই থাকে।
কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে—পায়ে শক্তি কমে যাওয়া, হঠাৎ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া, এমনকি প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণও হ্রাস পাওয়া।
এ কারণেই দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
মেরুদণ্ড আমাদের শরীরের মূল সাপোর্ট ব্যবস্থা। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
সঠিক চিকিৎসা, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, সঠিকভাবে বসা ও দাঁড়ানো, দীর্ঘসময় বাঁকা হয়ে কাজ না করা এবং ঝুঁকে কাজ এড়িয়ে চলা—এসব অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।