বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া খোলা ও বোতলজাত—উভয় ধরনের সয়াবিন তেলেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা ৬০টি নমুনার প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিশ্বখ্যাত জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এ গত এপ্রিল মাসে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার (Elsevier) গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে শুধু মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতিই নয়, এর ধরন, বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে।
পরীক্ষায় প্রতিটি নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) এবং নাইলন।
গবেষকদের মতে, খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা প্রবেশ দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
গবেষণাপত্রটি ২০২৫ সালের আগস্টে জমা দেওয়া হয়। পর্যালোচনা শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি গ্রহণ করা হয় এবং একই মাসে অনলাইনে প্রকাশিত হয়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।
গবেষকরা রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপ থেকে তিনটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল এবং ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার খোলা বাজার থেকে তিন ধরনের নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের নমুনা সংগ্রহ করেন। মোট ৬০টি নমুনা আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি এবং নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। অর্থাৎ, নন-ব্র্যান্ডেড তেলে ব্র্যান্ডেড তেলের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের নমুনায় সর্বোচ্চ মাত্রার দূষণ পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রে তেল সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় বিক্রি এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এ দূষণের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে বোতলজাত তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় গবেষকদের ধারণা, উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং কিংবা পরিবহনের বিভিন্ন ধাপেও প্লাস্টিক কণা তেলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
/এএসএফ