• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম


এআই দিয়ে বানোয়াট কনটেন্ট ছড়ানো বিনোদন নয়, অপরাধ: মেহজাবীন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬:৩৫ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়াকে অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে এ ধরনের কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মেহজাবীন।

পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি অপরাধ। কিন্তু একই কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি আরও বড় একটি সামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। তখন প্রশ্ন জাগে, সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?

মেহজাবীন আরও লেখেন, এ পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটিও আর বলতে ইচ্ছে করে না—একবার ভেবে দেখুন, এমন ঘটনা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ, কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে হলে তাঁকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি লেখেন, এসবের মাধ্যমে হয়তো কয়েক ডলার আয় করা সম্ভব। মানুষের জীবনে নানা ধরনের সংগ্রাম রয়েছে, তা তিনি বোঝেন। অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি এখন জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম। এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করতে চান না। তবে তাঁর প্রশ্ন, অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মান কখন থেকে উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?

বিষয়টি এখন আর শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, ভিউ, এনগেজমেন্ট ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।

মেহজাবীন লেখেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই ব্যক্তিরা নন, যাঁরা এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন। বরং আরও বেশি ভাবায় সেই অসংখ্য মানুষ, যাঁরা স্বেচ্ছায় এসব কনটেন্ট শেয়ার করছেন, তা নিয়ে আলোচনা করছেন এবং আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আগে প্রত্যেককে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত।

/এসএন