• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২০ পিএম


সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর দ্বিগুণ, কমবে গ্রাহকের প্রকৃত মুনাফা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুন ২০২৬ ৭:০৯ পিএম

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে করের হার বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলনের সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। বর্তমানে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কার্যকর রয়েছে।

নতুন এ পরিবর্তন কার্যকর হলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় কম অর্থ হাতে পাবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে মধ্যবিত্ত পরিবার, অবসরভাতা ভোগকারী এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর।

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চূড়ান্ত কর দায় ব্যবস্থাও বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতদিন মুনাফার ওপর কাটা ৫ শতাংশ করকেই চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে উৎসে করের হার ১০ শতাংশে উন্নীত হবে এবং তা অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি বড় অংশ সংসারের ব্যয় নির্বাহে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। ফলে উৎসে করের হার বৃদ্ধি পেলে তাদের হাতে পাওয়া অর্থ কমে যাবে, যা আর্থিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বর্তমানে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতি এক লাখ টাকার বিপরীতে মাসিক মুনাফা পাওয়া যায় ৯৯৪ টাকা ১৭ পয়সা। বর্তমানে ৫ শতাংশ কর কেটে নেওয়ার পর গ্রাহক হাতে পান প্রায় ৯৪৫ টাকা। নতুন নিয়মে ১০ শতাংশ কর কাটা হলে হাতে পাওয়া অর্থ আরও কমে যাবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে বেশি কর কেটে নেওয়া হলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। তার মতে, মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিতে এই অতিরিক্ত অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা উচিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, অর্থবিল-২০২৬ এর মাধ্যমে আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত কর দায়ের প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে করদাতার কাছ থেকে কাটা অগ্রিম করের পরিমাণ যদি প্রকৃত আয়করের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ১২০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, অবসরভাতা ভোগকারী সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এসব সঞ্চয়পত্রে মেয়াদভেদে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

এদিকে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থসচিব মোহাম্মদ খায়েরুজ্জমান মজুমদার বলেন, এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিষয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

/এসএন