• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২১ এএম


ভারত থেকে এলো কাঁচা মরিচের প্রথম চালান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ আগস্ট ২০২৬ ৫:২৭ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও সরবরাহ সংকটের কারণে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের প্রথম চালান দেশে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও বন্দর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে চালানটি দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।তবে আমদানি কার্যক্রম শুরু হলেও শুল্ক, বন্দর ব্যয় এবং কাস্টমস প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারকরা। তাদের দাবি, ঘোষিত আমদানি ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত খরচ অনেক বেশি হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে।বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে ভারতের একটি ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চালানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ চালানের আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান শিমু শিপিং লাইন্স।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তে আরও কয়েকটি মরিচবাহী ট্রাক অপেক্ষমাণ রয়েছে, যেগুলোও শিগগিরই বন্দরে প্রবেশ করবে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে এসব মরিচ আমদানি করা হচ্ছে।নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ফলে ঘোষিত মূল্য ও শুল্ক মিলিয়ে কেজিপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ টাকা। বন্দর, পরিবহন, কাস্টমস ও শ্রমিক মজুরিসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ করলে এই খরচ বেড়ে প্রায় ৭৮ টাকায় পৌঁছায়।তবে আমদানিকারক শাহাজান দাবি করেন, বাস্তবে সব ধরনের খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তার প্রায় ১৩৫ টাকা ব্যয় হয়েছে।তিনি বলেন, “আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কমবে। কিন্তু কাস্টমসের হয়রানি, পণ্য ছাড়করণে জটিলতা এবং বিভিন্ন খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রকৃত খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা লোকসানের ঝুঁকি তৈরি করছে।”এদিকে সোমবার বেনাপোলের স্থানীয় বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমদানিকারকের দাবি করা ১৩৫ টাকা ব্যয়ের পরও খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে প্রায় ১৬৫ টাকার ব্যবধান রয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ শৃঙ্খলের একাধিক ধাপে মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে এই পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শুধু আমদানির অনুমতি নয়, বরং বন্দর খালাস প্রক্রিয়া সহজ করা, শুল্ক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে কার্যকর তদারকি জোরদার করা হলে দ্রুত কাঁচা মরিচের দামে স্বস্তি ফিরবে।

/বিএসএস