• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম


বাংলাদেশ ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে যুক্ত হলো ১৮(ক) ধারা, বাড়ছে জনশঙ্কা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৬:০৬ পিএম

দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বহুল আলোচিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের একটি বিতর্কিত ধারা। আইনটির ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী, দুর্বল হয়ে পড়া বা একীভূত হওয়া ব্যাংকের সাবেক মালিকরা আবারও মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন—মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ জমা দিয়েই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধান ব্যাংক খাতে অতীতে অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের জন্য ‘ফেরার পথ’ তৈরি করেছে। এতে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ছে।

শেষ মুহূর্তে যুক্ত বিতর্কিত ধারা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনের মূল খসড়ায় ১৮(ক) ধারা ছিল না। সংসদে বিল তোলার ঠিক আগে, ৯ এপ্রিল রাতে এটি সংযোজন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি পরে জানতে পেরে আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ধারা থাকলে ব্যাংক সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। কারণ, যাদের কারণে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়েছে, তারাই আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসতে পারবে।

কী আছে ১৮(ক) ধারায়

নতুন বিধান অনুযায়ী, সাবেক শেয়ারহোল্ডাররা চাইলে পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা দাবি করতে পারবেন। আবেদন অনুমোদনের পর তিন মাসের মধ্যে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থের মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমা দিলেই মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। ফলে বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি কার্যত ‘নামমাত্র অর্থে ব্যাংক ফেরত পাওয়ার সুযোগ’।

আমানতকারী ও বিশ্লেষকদের শঙ্কা

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় অঙ্কের অনিয়মে জড়িত গোষ্ঠীর জন্য এই অর্থ জোগাড় করা কঠিন নয়। ফলে তারা সহজেই আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

একজন আমানতকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা ব্যাংক ডুবিয়েছে, তারাই যদি আবার মালিক হয়, তাহলে আমাদের টাকা কতটা নিরাপদ?”

একীভূত ব্যাংক নিয়েও প্রশ্ন

এদিকে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে নতুন ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়াও এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অতীতে বড় অঙ্কের অনিয়ম ও ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন আইনের এই ধারা ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতার বদলে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।