• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম


সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে সরকারকে চিঠি ব্যবসায়ীদের

আপডেট টাইম: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৯:১৫ পিএম

দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে গত বছরের নভেম্বর থেকে কয়েকটি কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বাজার থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় উধাও হয়ে গেছে।

খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে প্রায় ৩৫ টাকা বেড়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ডিসেম্বরে দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে অস্থিরতা কমেনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২০৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৯৫ টাকা।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকা এবং পাম তেল ১৭৭ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

তবে সরকার অনুমোদন দেওয়ার আগেই ব্যবসায়ীরা নতুন দাম কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে মূল্য সমন্বয় না হলে সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, বুধবার সারা দেশে পরিচালিত ৯টি মোবাইল কোর্টে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের মোট ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজারে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও পাঁচ লিটারের বোতলও মিলছে না। খোলা তেলের দাম লিটারে ২১০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

নয়াবাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে ডিলাররা দোকানে তেল সরবরাহ করছে না। তারা বলছে, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরই বাজারে তেল ছাড়বে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজার তদারকির অভাবেই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট শক্তিশালী হয়েছে। তার মতে, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বাজার ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে এবং যারা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে টিকে গ্রুপ-এর পরিচালক শফিউল আতহার তসলিম দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে বিক্রি করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে। মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান বাজারমূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।