• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম


জন্মের আগেই ডেঙ্গুর ছোবল, মায়ের সঙ্গে নিভে গেল গর্ভের শিশুর প্রাণ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২২ পিএম

জন্মের আগেই ডেঙ্গুর ছোবল, মায়ের সঙ্গে নিভে গেল গর্ভের শিশুর প্রাণআগামী ১২ অক্টোবর প্রথম সন্তানকে কোলে নেওয়ার কথা ছিল অর্পিতা দাশের (২৬)। তবে সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এই গর্ভবতী নারীর। মায়ের মৃত্যুর পর পৃথিবীর আলো দেখার আগেই গর্ভের পুত্রসন্তানও মৃত অবস্থায় প্রসব হয়।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় অর্পিতার মৃত্যু হয়।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অর্পিতা চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তান।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৬ সেপ্টেম্বর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।চিকিৎসকেরা জানান, অর্পিতা ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। রাতে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং প্ল্যাটিলেট দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এরপর তার গর্ভস্থ মৃত পুত্রসন্তান প্রসব হয়।এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর বিবরণী অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন। এর মধ্যে চমেক হাসপাতালে ২৬ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দুজন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ছয়জন ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০ জন।চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৬ জনে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪১৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২ হাজার ৩৮০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৯ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২৭ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট। জুলাইয়ে ৫৩৬ জন, আগস্টে ১ হাজার ২০২ জন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনেই ৭৬০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরেই মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। ফলে বর্ষা মৌসুমের শেষভাগে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি এবং রোগী শনাক্তও হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে।তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এই প্রবণতা থাকতে পারে। মশা নিধনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম শনিবারের মধ্যে শুরু হবে।

/বিএসএস