চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পরিচয় হয়েছিল দুজনের। আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে একে অপরের পাশে থেকে লড়াই করেছেন। সেই সহযোদ্ধার সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে রূপ নেয় ভালো লাগায়, আর সেই ভালো লাগারই পরিণতি ঘটেছে বিয়ের মাধ্যমে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের আহত (গেজেটভুক্ত) জুলাইযোদ্ধা আফরোজা বেগম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন আরেক সহযোদ্ধা মো. মোকশেদুল মোমেনের সঙ্গে।
রোববার (১৪ জুন) পারিবারিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। আফরোজা বেগম পৌর শহরের গোলকপুর গ্রামের মো. আব্দুল মান্নানের মেয়ে। অন্যদিকে মোকশেদুল মোমেন পৌর শহরের পূর্বভালুকা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করা হয়। কারফিউ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত ওই আন্দোলনে তিনজন শহীদ হন। সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন আফরোজা ও মোমেন।
আফরোজা বেগম জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিল বের হয়। ওই মিছিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় তিনি আহত হন। পরে তার সেবা-শুশ্রূষার সময় মোকশেদুল মোমেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
তিনি বলেন, ২০ জুলাই কলতাপাড়ায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ জোবায়েরের মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোদ্ধা হিসেবে মোমেন সবসময় তার পাশে ছিলেন। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক ভালো লাগায় রূপ নেয়।
আফরোজা বলেন, “আমাদের ভালো লাগার বিষয়টি আমি আমার পরিবারকে জানাই। সেও তার পরিবারকে জানায়। উভয় পরিবারের সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়েছে।”
মোকশেদুল মোমেন জানান, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। আফরোজা আহত হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজ নেন। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়।
তিনি বলেন, আন্দোলনের কঠিন সময়গুলোতে আফরোজা তাকে সাহস জুগিয়েছেন। একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, নিজের দল বিএনপি ক্ষমতায় না এলে বিয়ে করবেন না। তবে বর্তমানে পরিবার রাজি হওয়ায় তাদের নতুন জীবন শুরু হলো।
মোমেনের বোন রাহিমা খাতুন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ই তাদের পরিচয় ও প্রেমের শুরু। আজ সেই সম্পর্ক বিয়েতে পরিণতি পেয়েছে। এতে পরিবারও আনন্দিত।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, জুলাই আন্দোলনে অনেক সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। যারা জীবিত আছেন, তাদের জীবনের এমন আনন্দঘন মুহূর্ত সবার জন্যই আনন্দের। আন্দোলনের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের সফল পরিণতি ঘটেছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পেশাজীবী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। নবদম্পতির নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানান উপস্থিত সবাই।
/এসএন