• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম


গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিপাকে ছাত্রদল নেতা, প্রথম স্ত্রীর ফোনে ভেস্তে গেল আয়োজন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুন ২০২৬ ১১:৫৫ পিএম

নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতা প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগে প্রথম স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে পুরো আয়োজন ভেস্তে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বর ও তাঁর পক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। দীর্ঘ আলোচনার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে গভীর রাতে তারা মুক্তি পান।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে। অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ (২৫) মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে প্রতিবেশী এক তরুণীকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন সাব্বির আহমেদ। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়। পরে পারিবারিকভাবে কেন্দুয়া উপজেলার কৃষক দলের এক নেতার কলেজপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে যান সাব্বির। অতিথি আপ্যায়ন ও খাবার পরিবেশন শেষে সন্ধ্যায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময় সাব্বিরের প্রথম স্ত্রী মুঠোফোনে কনের বাবাকে তাঁর আগের বিয়ের বিষয়টি জানান। পরে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কনের পরিবারের সদস্যরা বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বরপক্ষের কয়েকজনকে আটকে রাখেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। বিয়ের আয়োজন বাবদ হওয়া খরচের একটি অংশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার পর দিবাগত রাত ২টার দিকে বরপক্ষের লোকজন ছাড়া পান।

কনের বাবা, যিনি কৃষক দলের একজন নেতা, বলেন, ‘ছেলেটি আগে বিয়ে করেছে—এ তথ্য আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর মেয়ের বিয়ে আর দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে বিয়ে পণ্ড হওয়ার ঘটনার জেরে শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির আহমেদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় তাঁর স্ত্রীর বড় বোন আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সাব্বির আহমেদের প্রথম স্ত্রী দাবি করেন, ২০২২ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল। সাব্বিরের অনুরোধেই এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সাব্বির আবার বিয়ে করতে গেলে বাধ্য হয়ে বিষয়টি জানাই। পরে আমাদের বাড়িতে হামলা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব্বির আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ছেলে আগে বিয়ে করেছে—এ তথ্য তাঁর জানা ছিল না। আগে জানলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁকে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাস জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়েকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।