• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৯ এএম


জামালপুর সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর প্রতিরোধে ব্যর্থ বিএসএফ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুন ২০২৬ ৮:৫৫ পিএম

জামালপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সতর্ক অবস্থান ও তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের বিপরীতে ১০৮০ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় বিএসএফের একটি গেট রয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই গেটের কাছে লোকজনবোঝাই তিনটি ভারতীয় গাড়ি এসে অবস্থান নেয়। এ সময় গাড়িগুলোর আশপাশে বিএসএফ সদস্যদেরও দেখা যায়। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন এবং বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান নেন।

পাররামরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া জানান, আগের ঘটনার মতো মঙ্গলবার রাতেও সীমান্ত গেটের কাছে ভারতের তিনটি গাড়ি অবস্থান নেয়। গাড়িগুলোতে বহু লোক ছিল। খবর পেয়ে তিনি নিজেও গ্রামবাসীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিএসএফ কয়েকজনকে সীমান্তের কাছে নামিয়ে দেয়। তখন গ্রামবাসীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং লাঠি হাতে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বিজিবি ও শত শত গ্রামবাসীর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

চেয়ারম্যান আরও জানান, রাতের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর গাড়িগুলো সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বুধবার সকালে বিএসএফ আবার চারজনকে সীমান্ত এলাকায় নামিয়ে দেয়। তারা এখনো ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। বিজিবি ও স্থানীয়দের নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

এদিকে বুধবার সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়াকামালপুর সীমান্ত দিয়েও একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেখানে বিজিবি ও গ্রামবাসীরা অবস্থান নেওয়ায় সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

ঘটনার সময় বিএসএফের এক কর্মকর্তা নাকি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘গুলি করবো কিন্তু’। জবাবে বিজিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গুলি করবেন মানে, আমাদের কাছে গুলি নেই? আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকব।’

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ইমাম হোসে বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়েই পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা সফল হচ্ছে না।

তিনি জানান, বুধবার সকালে ধানুয়াকামালপুর সীমান্ত দিয়ে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি নিজেও সেখানে অবস্থান করছেন এবং ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্তের ভেতরেই অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত সোমবার রাতে জামালপুর সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তখনও বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

/এসএন