সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এসএসসি পরীক্ষার বিরতির সময় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহসানুল হক (১৬) নামে এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক কিশোর শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাটের কামড়াবন্দ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আহসানুল হক উপজেলার শিমুলতলার উত্তর চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আলী রহমানের ছেলে। আহত কিশোর শ্রমিক শিমুল আহমদ (১৭) একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের মা তহুরা খাতুন জানান, তার একমাত্র ছেলে আহসানুল হক ২০২৬ সালের চলমান এসএসসি পরীক্ষায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, পরীক্ষার বিরতি থাকায় সংসারের অভাব-অনটন সামাল দিতে বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমবারের মতো অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে দৈনিক মজুরিতে উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে যায় আহসানুল।
কাজ শুরু করার পর ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আহসানুল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কিশোর শ্রমিক শিমুলও আহত হন।
ভবন নির্মাতা ও উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী সাজুল ইসলাম সাজু বলেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরানোর জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। তবে নির্ধারিত ফি জমা না দেওয়ায় লাইনটি সরানো হয়নি। এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে নিহতের মা তহুরা খাতুন অভিযোগ করেন, তার একমাত্র সন্তানের মৃত্যু এবং অপর কিশোর আহত হওয়ার জন্য ভবন মালিকপক্ষের অবহেলাই দায়ী।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তাহিরপুর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মো. আলাউল হক সরকার জানান, ভবনের মালিককে একাধিকবার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থানান্তরের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অবহেলা ও সময়ক্ষেপণ করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান।
ভবন নির্মাণকাজের ঠিকাদার সোহেল মিয়া বলেন, তিনি স্কয়ার ফিট হিসেবে কাজ নিয়েছিলেন। নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভবন মালিকের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে একাধিকবার বলা হলেও ভবন মালিক তা গুরুত্ব দেননি।
তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।