যশোরের বেনাপোল সীমান্তঘেঁষা শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর তার মরদেহ গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে সিমেন্ট ঢালাই করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে তার অর্ধগলিত মরদেহ।
এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইকরামুল কবির পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন— মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) ও ফরহাদ হোসেন (২৮)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নী (২২)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইকরামুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাস পাঁচদিন আগে প্রেমিকা মুন্নীর কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন ইকরামুল। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে মুন্নীর স্বামী আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বসতপুর গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানের সময় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে ইকরামুল কবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পরকীয়া সম্পর্ক এবং পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ইকরামুলকে শ্বাসরোধ অথবা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে ঢালাই করা হয়।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক চারজনকে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
/এসএন