• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম


দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখেই এইচএসসিতে জিপিএ ৩.৫০ পেলেন কলি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৯:১০ পিএম

দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখেই এইচএসসিতে জিপিএ ৩.৫০ পেলেন কলি

জন্ম থেকেই দুই হাতে আঙুল নেই। তবে শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি রংপুরের কলি রানীর। দুই হাতের পরিবর্তে পা দিয়ে লিখেই একের পর এক শিক্ষাজীবনের ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি। এবার চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এই অদম্য শিক্ষার্থী। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও মানুষের সেবা করতে চান তিনি।

কলি রানীর বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামে। তিনি কাউনিয়া কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে অংশ নিয়ে জিপিএ ৩.৫০ অর্জন করেছেন।

জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাতের আঙুল নেই। ফলে ছোটবেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়েছে তাঁকে। দীর্ঘদিনের অনুশীলন, অধ্যবসায় ও প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন কলি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল তাঁর সেই নিরলস প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।

তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি। তাঁর বাবা প্রয়াত মনোরঞ্জন রায়। তিনি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন, তখনই বাবাকে হারান। এরপর মা রূপালী রানীর স্নেহ, সাহস ও সহযোগিতায় এগিয়ে চলেছে তাঁর শিক্ষাজীবন।

কলির মা রূপালী রানী জানান, জন্ম থেকেই মেয়ের দুই হাতের আঙুল নেই। কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমাতে পারেনি। পরিবারের সহযোগিতা, সহপাঠীদের আন্তরিকতা এবং শিক্ষকদের উৎসাহ কলিকে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

পিইসি থেকে এসএসসি, এবার এইচএসসিতেও সাফল্য

কলির শিক্ষাজীবনে এমন সাফল্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, কলি রানী পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৩.৫০ পেয়েছে। তার এই ফলাফলে তাঁরা খুবই খুশি।

ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় স্বপ্ন দেখেন কলি রানী। উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হতে চান তিনি। দেশ ও মানুষের সেবা করাই তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।

কলির বিশ্বাস, শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না। অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এই বিশ্বাস বাস্তবে প্রমাণ করতে চান তিনি।

দুই হাতে আঙুল না থাকলেও পা দিয়ে লিখে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে সাফল্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কলি। এবার তাঁর লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়া।

/এএসএফ