• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পিএম


বয়স ১২৩, চোখে নেই চশমা—এখনো নিয়মিত পড়েন কোরআন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৩ এএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আব্বাস প্রামাণিক দেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। দীর্ঘ জীবনে তিনি ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছেন। ভোটার আইডি কার্ডে জন্মতারিখ ১৯০৩ সাল উল্লেখ থাকায় বর্তমানে তার বয়স ১২৩ বছর।কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন আব্বাস প্রামাণিক। পাশাপাশি এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তার দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে। তিনি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত সদর উদ্দিন।বয়সের ভারে বর্তমানে আব্বাস প্রামাণিকের শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। চলাফেরার জন্য লাঠির প্রয়োজন হয়। কানে আগের মতো ভালো শোনেন না। তবে তার জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো—১২৩ বছর বয়সেও তিনি চশমা ছাড়াই নিয়মিত নামাজ আদায় করেন এবং কোরআন শরিফ পড়েন। এখনো খালি চোখে তিনি স্পষ্ট দেখতে পান।তার হাতে দেখা যায় একটি ক্যাসিও ঘড়ি। তার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ বছর কম বয়সী অনেক মানুষ যেখানে চশমা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না, সেখানে আব্বাস প্রামাণিকের দৃষ্টিশক্তি এখনো অনেকটাই স্বাভাবিক।সরেজমিনে জানা গেছে, নাতি ও নাতির বউরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আব্বাস প্রামাণিকের দেখাশোনা করেন। তার স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। তার সমবয়সীদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই। জীবনের কয়েক দশক তিনি একাই কাটিয়েছেন।আব্বাস প্রামাণিকের প্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল। একসময় তার অর্থ-সম্পদও ছিল। তবে বর্তমানে ভাঙাচোরা একটি ঘরেই বসবাস করছেন তিনি। দীর্ঘ জীবনের অনেক স্মৃতি বয়সের ভারে এখন আর তার মনে নেই। তারপরও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করেন তিনি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও এখনো নিজের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করেন।আব্বাসের নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, তার দাদা একজন ধার্মিক মানুষ। তিনি সৎভাবে জীবন কাটিয়েছেন। সাদাসিধে জীবনযাপনই ছিল তার পছন্দ। গাড়িতে চড়াকেও তিনি বিলাসিতা মনে করতেন। তাই জীবনের বেশিরভাগ সময় হেঁটেই চলাচল করেছেন।শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন শরীর আগের মতো সায় দেয় না। তবুও লাঠিতে ভর করে বাড়ির উঠানে হাঁটেন তার দাদা।আরেক নাতি বেলাল হোসেন বলেন, আব্বাস প্রামাণিকের ছেলে-মেয়েরা সবাই নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই দাদাকে দেখাশোনার জন্য নির্দিষ্ট কেউ নেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা তার পাশে থাকার চেষ্টা করেন।বেলাল হোসেন বলেন, তার দাদার ঘরটিও ভাঙাচোরা। এই বয়সে তার পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন হলেও সবসময় তা জোগাড় করা সম্ভব হয় না।আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, পাঁচ বছর বয়সে তার মায়ের মৃত্যু হয়। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সৎ ও সহজসরল জীবনযাপন করতে দেখেছেন। কর্মজীবনে তার বাবা খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।আলিমা বেগম আরও বলেন, তার বাবা এখনো চশমা ছাড়া কোরআন পড়েন। অথচ তার সন্তানরাই এখন চোখে কিছুটা ঝাপসা দেখেন। আব্বাস প্রামাণিক সন্তান ও নাতিদের সঙ্গেই থাকেন। সুযোগ পেলেই তিনি পছন্দের খাবার নিয়ে বাবাকে দেখতে যান।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তিনি তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তার চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে।ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে খুবজীপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র। উপজেলা প্রশাসনও বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করে আসছে।

/বিএসএস