নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চকনটাবাড়িয়া গ্রামে রাতের আঁধারে দুই ভাইয়ের শ্রম ও অর্থে গড়ে তোলা বাগানের দুই শতাধিক বড়ই গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতে বাগানের প্রায় ২০০ গাছ কেটে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী দুই সহোদর হলেন কাওসার আহমেদ (৩২) ও শাওন আলম (২৮)। তারা চকনটাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম মাওলার ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় চকনটাবাড়িয়া গ্রামের ওই বাগানে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ফল ও ফুলে ভরা দুই শতাধিক বড়ই গাছ কেটে ফেলে। বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে দুই ভাই আড়াই বিঘা জমিতে এ বাগান গড়ে তুলেছিলেন। জমিটি তারা বছরে ৪৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছিলেন।
বাগানটিতে মোট প্রায় ৬০০টি বড়ই গাছ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে তারা গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলেন। লিজের টাকা এবং বাগানের পেছনে অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ইতোমধ্যে তাদের প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
শুক্রবার সকালে শাওন বাগানে গিয়ে দেখতে পান, গেটের তালা ভেঙে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান তার বড় ভাই কাওসারও।
কেটে ফেলা ফলবান গাছের ডাল বুকে জড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাওন বলেন, ‘বাগানে কোনদিন একটা কামলা (শ্রমিক) নেইনি। রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে সব কাজ নিজেরাই করেছি। ১০-১১ মাসের শ্রম-ঘামে বড় করা গাছগুলা এইভাবে কেটে ফেলবে স্বপ্নেও ভাবিনি।’
ক্ষতিগ্রস্ত শাওন জানান, বৃহস্পতিবার বাগানের সেচপাম্প ব্যবহার করে বাগানসংলগ্ন এক ব্যক্তির অনুরোধে তার দুই বিঘা জমিতে সেচের পানি দিয়েছিলেন তিনি। এতে পাশের গভীর নলকূপের ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হন বলে দাবি করেন শাওন। পরে আসাদুল সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করেন।
শাওনের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর রাতেই বাগানের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। একই সময় জমিতে পানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত পলিথিনের পাইপগুলোও সেখান থেকে চুরি হয়ে যায়। তবে এলাকার অন্য কারও সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই বলেও জানান তিনি।
এ কারণে আসাদুল ইসলামই গাছগুলো কেটে ফেলেছেন বলে ধারণা করছেন দুই ভাই। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগেও আসাদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে আসাদুলকে এলাকায় দেখা যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এসএন