চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিই বন্ধ রয়েছে। সচল রয়েছে ২২টি কেন্দ্র, তবে তাতেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, আর উপজেলাগুলোতে সরবরাহ দেয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)।
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়েছে। নগরীতে টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সংগ্রহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানির সংকটে পড়েছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। এতে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কৃষি সেচ ও স্বাভাবিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলে মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে ৬টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২, ৩ ও ৫ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই-৪ ইউনিট থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উৎপাদন করা হলেও তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। এছাড়া রাউজান-১ ও রাউজান-২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার) এবং জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিও বন্ধ রয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে অফ-পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮৪ দশমিক ৯ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে ১৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। ওইদিন অফ-পিক সময়ে ১১১ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে ১৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখানো হলেও বাস্তবে তা ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
কালুরঘাট শিল্প এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানার মালিক জানান, প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে একই পরিস্থিতি চলছে।
এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন, জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের কথা বলে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া হলেও গ্রাহকদের অভিযোগ—এটি লোডশেডিং আড়াল করার কৌশল।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াসহ আট উপজেলায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এসব এলাকায় প্রায় ৭ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবার আওতায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।