বরগুনার আমতলী উপজেলায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সুপ্রিয়া রানীর স্বজনদের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুপ্রিয়ার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে মামলার এক আসামি অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বিমল বেপারীর মেয়ে সুপ্রিয়া রানীর সঙ্গে ২০১২ সালে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।তবে নিহতের পরিবারের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বর্ণিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে সুপ্রিয়া প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন। তার মা দীপালী রানীর অভিযোগ, এ কারণেই একাধিকবার সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করেছেন অজয়।অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদার সুপ্রিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের বিষয়টি সুপ্রিয়া মুঠোফোনে তার মা দীপালী রানীকে জানান।
কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে স্বামী ও তার স্বজনরা সুপ্রিয়াকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অজয় চন্দ্র ও তার স্বজনরা হাসপাতালেই মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ওই রাতেই নিহতের মা দীপালী রানী বাদী হয়ে জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই দিন দুপুরে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।নিহত সুপ্রিয়ার পরিবারে ১১ বছর বয়সী এক কন্যা ও ১১ মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে।নিহতের মেয়ে মিথিলা অভিযোগ করে বলে, ‘বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা আমার মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন।
আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’নিহতের মা দীপালী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বর্ণিকার সঙ্গে পরকীয়া করতেন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি অজয় চন্দ্র হাওলাদার, স্বর্ণিকা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হাসান রাহাত জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রমা রানী নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
/বিএসএস