• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ এএম


গ্যাস না পেয়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলেন সিএনজি চালকেরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ জুলাই ২০২৬ ৫:০৪ পিএম

ভোরে গ্যাস নেওয়ার আশায় ঘর থেকে বের হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাননি ময়মনসিংহের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। এর প্রতিবাদে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখে তারা ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিগারকান্দা এলাকায় চালকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তারা জানান, কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের এই সংকট এক দিনের নয়। কয়েক দিন ধরেই ভোর থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনের আয়ের বড় একটি অংশ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবরোধের প্রভাবও তীব্র হতে থাকে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে। মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট তৈরি হয়, যার প্রভাব আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে অনেক অফিসগামী সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। অনেকে বাস থেকে নেমে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক ইদ্রিস আলী বলেন, “গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। এরপর আর আগের মতো ট্রিপ দেওয়া যায় না। আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

আরেক চালক ইকবাল হোসাইন বলেন, নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে না পারায় যেমন তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও নির্ভরযোগ্য পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহের এই সংকট নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত ও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। এ খাতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শুধু চালকদের আয়ই কমে না, পুরো যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়। এর ফলে নগর ও জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিব্বিরুল আহমেদ জানান, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বেলা ১২টার দিকে চালকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

/এসএন