• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম


প্রেমের টানে চীন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ইসলাম গ্রহণের পর বিয়ে চীনা নাগরিকের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুলাই ২০২৬ ২:৪৯ পিএম

প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের নাগরিক সোহান চাও (৩৮)। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ। বিয়ের পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কৌতূহলী মানুষ কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের আয়েশা সুলতানার (২১) বাড়িতে ভিড় করেন। আয়েশা ওই গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। অন্যদিকে, সোহান চাও চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরের বাসিন্দা সংফু ফ্যাংয়ের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি চীনা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আয়েশা সুলতানার সঙ্গে সোহান চাওয়ের পরিচয় হয়। প্রায় দুই মাস অনলাইনে যোগাযোগের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এসে সং হানজাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর গত ১৪ জুন এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলামী রীতিতে আয়েশা সুলতানাকে বিয়ে করেন।

আয়েশা সুলতানা জানান, প্রায় তিন মাস আগে ‘ওয়ালটপ’ নামের একটি অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোহান চাওয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নিয়মিত কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন বাংলাদেশে আসেন সোহান। পরে ১৪ জুন তাকে নিয়ে ঢাকায় যান আয়েশা। সেখানে হাইকোর্টের আইনজীবী লিমা আক্তারের মাধ্যমে সোহানের বাবা সংফু ফ্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। উভয় পরিবারের সম্মতিতে সোহান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। এরপর তারা বিয়ে করেন এবং বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন।

আয়েশার বাবা আবদুল আলিম বলেন, সোহান বাংলাদেশে আসার পর তারা ঢাকায় গিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পর মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। মেয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। পরে তাকে চীনে নিয়ে যাওয়া হবে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় যুবক আলিম হোসেন বলেন, প্রায়ই দেখা যায় বিদেশ থেকে এসে বিয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। তাই এ ধরনের বিষয়ে সরকারের আরও নজরদারি প্রয়োজন।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিস্তারিত জানার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসএন