• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম


‘আদ-দ্বীন ছিল গরিব মানুষের ভরসা’, লাইসেন্স বাতিলে ক্ষোভ ডা. মাহমুদা মিতুর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ জুন ২০২৬ ৮:০৭ এএম

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডা. মাহমুদা মিতু।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে।

ফেসবুক পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন, “এই লেখাটা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, একজন গাইনি বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে। আমি দীর্ঘ সময় চিকিৎসা পেশায় ছিলাম। বাড্ডার একটি মা ও শিশু হাসপাতালে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। সেই সময়ে আমাদের মধ্যে একটি কথা প্রচলিত ছিল—আদ-দ্বীন হাসপাতাল হলো দ্বিতীয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কথাটি কিন্তু অনেক বড়।”

তিনি জানান, তখন তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং আদ-দ্বীন হাসপাতাল কার বা কে পরিচালনা করেন, সে বিষয়েও তার কোনো ধারণা ছিল না। তবে একটি বিষয় তিনি ভালোভাবেই জানতেন—রাত-বিরাতে জরুরি সমস্যায় গরিব মানুষের জন্য আদ-দ্বীন ছিল একটি নির্ভরতার জায়গা।

ডা. মিতু বলেন, “একটি বেসরকারি হাসপাতাল এত কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে, বর্তমান সময়ে তা প্রায় অকল্পনীয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখানে প্রচুর নরমাল ডেলিভারি হয়। চিকিৎসক ও নার্সরাও অনেক অভিজ্ঞ। প্রায় সরকারি হাসপাতালের সমপর্যায়ের খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকে। এজন্য হয়তো মাঝে মাঝে সেবার মান বা ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকে। কিন্তু আমি রোগীদের বলতাম, এত কম খরচে চিকিৎসা পাচ্ছেন, কিছুটা কষ্ট মেনে নিন।”

তিনি আরও বলেন, তার চিকিৎসক জীবনে যত রোগী রেফার করেছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঠিয়েছেন আদ-দ্বীন হাসপাতালে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আজিমপুর ম্যাটারনিটিতে।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে স্বল্প খরচে আইসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধাও রয়েছে। তার ভাষায়, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবায় আদ-দ্বীন কত বড় ভূমিকা রাখছে, তা অনেকেই কল্পনা করতে পারবেন না।”

তিনি বলেন, “রাত-বিরাতে জটিল রোগী এলে এবং আমাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেলে আমরা তাদের আদ-দ্বীনে পাঠিয়ে দিতাম। সেখানে ২৪ ঘণ্টা অ্যানেস্থেসিয়াসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা চালু থাকে। পাশাপাশি প্রতিবছর এখান থেকে দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স বের হয়ে আসছেন।”

সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “এই ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এজন্য পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এমনিতেই ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় পর্যন্ত জায়গা নেই। এর মধ্যে এত বড় একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

/এএসএফ