• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম


কাগজপত্র ছাড়াই ওয়ার্ক পারমিট, নতুন সুবিধা ঘোষণা আমিরাতের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ জুন ২০২৬ ১২:৫২ এএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ওয়ার্ক পারমিট বা কর্মসংস্থান অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয়।

সরকারি জটিলতা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে, কোনো ধরনের সহায়ক নথিপত্র ছাড়াই শতভাগ কাগজবিহীন উপায়ে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, যা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে।

সংস্কারের অংশ হিসেবে বর্তমানে চালু থাকা ওয়ার্ক পারমিট সেবার কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণপরামর্শ বা অনলাইন কনসালটেশন কার্যক্রম চালু করেছে মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন।

ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীরা ঘরে বসেই সহজে বিভিন্ন ধরনের আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ উদ্যোগ বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতের চাহিদা বিবেচনায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছর মেয়াদি ‘বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট’, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ করা যাবে।

এ ছাড়া আমিরাতের অভ্যন্তরে এক চাকরি থেকে অন্য চাকরিতে স্থানান্তরের জন্য দুই বছর মেয়াদি ‘ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট’ চালু রয়েছে। পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে রাখা হয়েছে ‘ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট’। নির্দিষ্ট মেয়াদের জরুরি কাজের জন্য ‘মিশন ওয়ার্ক পারমিট’ এবং সাময়িক কাজের জন্য ‘টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিট’ চালু করা হয়েছে।

আধুনিক কর্মসংস্থানের চাহিদা বিবেচনায় ফ্রিল্যান্সার ও খণ্ডকালীন কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য দেওয়া হবে ‘ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট’। একই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা মূল নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন ‘পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিট’-এর মাধ্যমে।

এ ছাড়া শিক্ষকতা পেশার জন্য ‘প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট’ এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতেও বিশেষ পারমিট চালু করা হয়েছে। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে দেওয়া হচ্ছে ‘জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট’। পাশাপাশি ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে ‘স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট’।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় আমিরাতি স্নাতকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিশেষ ‘ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিট’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।