• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ এএম


জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কি হতে পারেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুন ২০২৬ ৬:৪৫ পিএম

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রনেতা ও কূটনীতিকদের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই আলোচনায় অনানুষ্ঠানিকভাবে উঠে এসেছে নোবেলজয়ী এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সাধারণত চলমান মেয়াদের শেষ বছরে গতি লাভ করে। ইতোমধ্যে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন থেকেই পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা বহুদিন ধরেই তাকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের উপযোগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে এই নির্বাচনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বান কি মুন এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৭ সাল থেকে পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেস ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

জাতিসংঘের অলিখিত আঞ্চলিক রোটেশন নীতির আলোকে এবার আফ্রিকা অথবা লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় থাকলেও আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিষয়টি তার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে সামনে আসছে।

এদিকে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে এই পদে নির্বাচিত হতে হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের সমর্থন পাওয়া এবং তাদের কোনো ভেটোর মুখে না পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং পরাশক্তিগুলোর ঐকমত্যই শেষ পর্যন্ত বড় নির্ধারক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/এসএন