• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ এএম


নেদারল্যান্ডসে ‘পাওয়ার অব পোস্টকোডস’ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ জুন ২০২৬ ১০:০৬ পিএম

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ডাচ পোস্টকোড লটারির আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘দ্য পাওয়ার অব পোস্টকোডস’-এ মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। সোমবার (১ জুন) আমস্টারডামে আয়োজিত ডাচ পোস্টকোড লটারির বার্ষিক এই অনুষ্ঠানে ৮৫০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস তার বহুল আলোচিত ‘থ্রি-জিরো’ ভিশন তুলে ধরেন। তিনি এমন একটি পৃথিবীর কথা বলেন, যেখানে সম্পদের কেন্দ্রীকরণ রোধের মাধ্যমে দারিদ্র্য সম্পূর্ণ দূর হবে, তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বেকারত্ব শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে এনে গড় কার্বন নিঃসরণও শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের বক্তব্যে ড. ইউনূস তরুণদের উদ্দেশে বলেন, তারাই যেন সেই প্রজন্ম হয়ে ওঠে, যারা এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।

বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের তরুণদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং আন্দোলনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নারীরাই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন এবং নেতৃত্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ডাচ পোস্টকোড লটারির এই আয়োজনে দাতব্য সংস্থার অংশীদার, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পোস্টকোড লটারির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক প্রভাব তুলে ধরা হয় এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের মধ্যে অর্থবহ সংলাপের সুযোগ তৈরি করা হয়।

সম্মেলনের সূচনা হয় ‘ইয়াং প্রফেশনালস নেটওয়ার্কিং সেশন’-এর মাধ্যমে। এতে জেনারেশন জি-এর পক্ষে মূল বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসের তরুণ অধিকারকর্মী ও নাগরিক অংশগ্রহণ এবং প্রজন্মগত ন্যায্যতার পক্ষে সক্রিয় কণ্ঠস্বর জাহকিনি বিসেলিঙ্ক।

সেশনের শেষ পর্যায়ে অধ্যাপক ইউনূস মঞ্চে যোগ দিয়ে উপস্থিত তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি তরুণ পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং প্রজন্মের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে বাস্তবধর্মী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মূল অনুষ্ঠানে ডাচ পোস্টকোড লটারির পরিচালক সিগরিড ভ্যান আকেন এবং চেয়ারম্যান ইয়োনে আর্নল্ডুসেন বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরি করে।

৮৫০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক সামাজিক কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এই আয়োজনে অংশ নেন। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে বিশেষ আলাপচারিতা, যা সঞ্চালনা করেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক জাতিসংঘ তরুণ প্রতিনিধি হাযার ইয়াকুবি।

দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও জলবায়ু সংকট বিষয়ে তরুণদের মতামত সংগ্রহের অভিজ্ঞতা থেকে হাযার ইয়াকুবি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে গভীর আলোচনা করেন। এ সময় ড. ইউনূস কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্যোগ শুধু কাম্য নয়, বরং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য অপরিহার্য।”

পরে একটি নেটওয়ার্কিং রিসেপশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। সামাজিক উদ্ভাবন ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ নিয়ে আলোচনা আয়োজনের জন্য Circa Amsterdam-এর জিওডেসিক ডোমকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা টেকসই নকশা ও শক্তি-সাশ্রয়ী ব্যবস্থার জন্য পরিচিত।

উল্লেখ্য, ডাচ পোস্টকোড লটারি নেদারল্যান্ডসের অন্যতম বৃহৎ ফান্ডরেইজিং লটারি। সমাজ, পরিবেশ ও মানবিক খাতে কাজ করা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকে এই লটারির আয় থেকে অর্থায়ন করা হয়। ‘দ্য পাওয়ার অব পোস্টকোডস’ তাদের বার্ষিক আয়োজন, যেখানে অংশীদার, নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সম্মিলিত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে একত্রিত হন।

/এসএন