• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম


কারামুক্ত আইভী, রয়েছে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ জুন ২০২৬ ৪:২৩ পিএম

প্রায় ১৩ মাস কারাবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, সন্ধ্যার দিকে জামিনসংক্রান্ত কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে রাত ১০টা ৮ মিনিটে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাগার ত্যাগ করেন তিনি।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মিস নং-১৩৪১২/২৬ এবং নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্মারক নং-৭৭৩ অনুযায়ী জামিনের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের স্মারক নং-১৪৫৭ অনুযায়ী জেলার নয়টি মামলায়ও তার জামিন নিশ্চিত করা হয়। অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছিল।

মুক্তির সময় কারাগারের ফটকে তার আইনজীবী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি গাড়িতে উঠে যান এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভিত্তিহীন। তিনি এক বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন। হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে স্থগিতাদেশ চাইলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে। ফলে তার মুক্তির পথ সুগম হয়। তিনি আরও জানান, আইভী তার আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ পৃথক ১০ মামলায় গত ১০ মে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। এর আগে ৩০ এপ্রিল দুটি মামলায়ও হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিলেন, যা ১৭ মে চেম্বার আদালত বহাল রাখেন।

দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইভী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ২৬ এপ্রিল প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়, হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে তাকে বারবার মামলায় জড়ানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

চব্বিশের আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট পৃথক পাঁচ মামলায় জামিন বিষয়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে চেম্বার আদালত বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এসব মামলার মধ্যে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা ছিল।

পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন দেন। পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ছিল ফতুল্লা থানায় দায়ের করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলা। অন্য মামলাটি সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ৫ মার্চ চেম্বার আদালত জামিনাদেশ স্থগিত করে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। পরবর্তী শুনানিতে আপিল বিভাগ সব মামলায় জামিন বহাল রাখে।

সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

/এসএন