ছবি: সংগৃহীত
বিএনপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা যদি আগের মতো ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কায়দায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে তাদের পতন আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপভাবে হবে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কবি কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে এনসিপির এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতবিনিময় সভার ঘোষণার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সেখানে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতারা সরাসরি ওই হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো বিচার হয়নি।
রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার বিচার দাবি করে সারজিস আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং সে জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে এই সহমর্মিতা যদি কেবল একদিনের ইস্যু ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল হয় এবং আগামী ছয় মাসেও যদি বিচারের কোনো অগ্রগতি না দেখা যায়, তাহলে দেশের মানুষ তা আর মেনে নেবে না।
তিনি আছিয়া হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রথমে বলা হয়েছিল ৩০ দিনের মধ্যে, পরে ৯০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর করা হবে। অথচ ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত সেই রায় কার্যকর হওয়ার কোনো খবর নেই।
বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিএনপি পদে পদে তাদের দফা, গণভোট এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা ও গাদ্দারি করছে। গত ১৭ বছর ধরে দলটি স্বাধীন ও পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের দাবি জানালেও ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৃথক সচিবালয়ের আইন বাতিল করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, “একদিকে স্বাধীন বিচার বিভাগের আইন বাতিল করা, আর অন্যদিকে হত্যার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া বিএনপির সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কেন ওসমান হাদির হত্যাকারীরা বাংলাদেশে ফিরে আসে না এবং কেন তাদের বিচার ও রায় কার্যকর হয় না। তিনি বলেন, বিএনপি যদি মনে করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর না করে এবং ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি না করেও পার পেয়ে যাবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই এখনই কথা বলা বন্ধ করা যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মুহূর্তে পিছিয়ে গেলে ক্ষমতাসীন দল আরও বড় স্বৈরাচারে পরিণত হবে।
সারজিস আলম বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।