• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম


তিন বিস্ফোরণের পর তলিয়ে গেল রুশ জাহাজ ‘উরসা মেজর’— সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ মে ২০২৬ ৭:৪৫ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার কার্গো জাহাজ ‘উরসা মেজর’ ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে রহস্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাহাজটি সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে রাশিয়ার সাবমেরিনে ব্যবহৃত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের উপাদান বহন করছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জাহাজটি ইউস্ট-লুগা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। সরকারি নথিতে বলা হয়েছিল, এতে খালি কন্টেইনার, ক্রেন এবং বড় ‘ম্যানহোল কভার’ বহন করা হচ্ছিল। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘোষিত মালামালের আড়ালে আরও সংবেদনশীল সামরিক উপাদান ছিল।

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়, জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠান ‘ওবোরোনলজিস্টিক্স’ আগে থেকেই পারমাণবিক উপাদান পরিবহনের লাইসেন্স পেয়েছিল। টাইম-ল্যাপস ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কন্টেইনারের নিচে বিশেষ ফাঁকা অংশ রাখা হয়েছিল, যেখানে পরে তথাকথিত ‘ম্যানহোল কভার’ বসানো হয়।

ঘটনার দিন স্পেনের জলসীমার কাছে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের পাশে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই প্রকৌশলী নিহত হন এবং জাহাজটি দ্রুত ডুবে যায়। বেঁচে যাওয়া ১৪ জন ক্রুকে পরে স্পেনের উদ্ধারকারী দল উদ্ধার করে।

তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, জাহাজের হুলে পাওয়া গর্ত ও ধাতব অংশের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বাইরে থেকে কোনো শক্তিশালী আঘাত করা হয়েছিল। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এটি অত্যাধুনিক ‘সুপারক্যাভিটেটিং টর্পেডো’ অথবা বিশেষ ধরনের মাইন বিস্ফোরণের ফল হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ক্যাপ্টেন পরে স্বীকার করেন যে, তথাকথিত ‘ম্যানহোল কভার’ আসলে সাবমেরিনে ব্যবহৃত পারমাণবিক চুল্লির উপাদান ছিল এবং জাহাজটি সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার রাসন বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

ঘটনার পর রুশ গোয়েন্দা জাহাজ ‘ইয়ান্তার’ কয়েকদিন ধরে ডুবে যাওয়া জাহাজটির অবস্থান ঘিরে কার্যক্রম চালায়। পরে সমুদ্রের তলদেশে আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের খবরও সামনে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক সাবমেরিন প্রযুক্তি সরবরাহের চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন, রুশ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সামরিক বাহিনীগুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

/এএসএফ