ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) বাস্তবায়ন পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলনে এ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা দেখা যায়।
১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) বাস্তবায়ন মূল্যায়নে আয়োজিত এক মাসব্যাপী এই সম্মেলনে বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের পক্ষ থেকে ৩৪ জন সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়। সম্মেলনের সভাপতি ও দো হুং ভিয়েত জানান, ইরানকে নিরপেক্ষ জোটভুক্ত ও অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের গ্রুপ থেকে মনোনীত করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও সম্মেলনে বলেন, ইরানকে এমন পদে নির্বাচিত করা এনপিটির মূল চেতনার প্রতি অপমানজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এনপিটির আওতায় থাকা দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতিকে উপেক্ষা করে আসছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করেনি।
ক্রিস্টোফার ইয়াও আরও বলেন, “ইরানের এই নির্বাচন অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।”
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এ নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “যে দেশ একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনও নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে, তাদের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
এদিকে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে পারমাণবিক ইস্যু। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করার দাবি জানিয়ে আসছে। সোমবার ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংকট নিরসনে তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে বলা হয়েছে—যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা হতে পারে।