ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি পদসহ ১৩টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জয় পেয়েছেন নারী প্রার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সহসভাপতি নির্বাচিত হওয়ার নজির গড়েছেন নাশরা নাইম। শুক্রবার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, সহসভাপতি পদে ৭ হাজার ৯১টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন নাশরা নাইম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮টি ভোট। এ জয়ের মধ্য দিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ইতিহাসে প্রথম নারী সহসভাপতি হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি।এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক পাঁচটিতে জয় পেয়েছেন নারী প্রার্থীরা। সহসভাপতি পদে নাশরার বিজয়সহ ছাত্র সংসদের ১৩টি পদের মধ্যে ছয়টিতে নারীদের জয় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।অন্যদিকে, ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। তিনি চার হাজার ১০০টিরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ হামদান।এএমইউ ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব এবং উইমেনস কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।শিক্ষার্থীদের টানা তিন বছরের আন্দোলনের পর দীর্ঘ আট বছর বিরতি দিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের মতে, চলমান ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রভাবও পড়েছে নির্বাচনে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিক্ষক বলেন, আগের বছরগুলোর মতো এবার নির্বাচনী প্রচারণা কেবল ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের সামগ্রিক রাজনীতি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন। তিনি এবারের নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠানের ‘উচ্চ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।পাশাপাশি নির্বাচনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানান উপাচার্য। এ সময় নারী ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
/বিএসএস