ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন এবং গাজায় মানবিক সহায়তার সমর্থনে আয়োজিত তিন দিনের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ কনসার্ট সফর শেষ করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ম্যাকলমোর। গত ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ওভিও অ্যারেনা ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত শেষ কনসার্টটি দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। এতে ম্যাকলমোরের সঙ্গে অংশ নেন সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথ, নেমাহসিস, জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বিভিন্ন দেশের শিল্পী ও অধিকারকর্মীরা।ডাবলিন, প্যারিস ও লন্ডনে আয়োজিত তিনটি কনসার্টের টিকিট বিক্রি শুরুর পরপরই শেষ হয়ে যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব কনসার্ট থেকে পাওয়া অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ১২টি সংগঠনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।লন্ডনের কনসার্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাকলমোর বলেন, গাজায় চলমান বিপর্যয়ের মুখে নীরব থাকা তার কাছে কথা বলার চেয়েও বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘গাজার শিশুরা আমাদেরও সন্তান। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই।’অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারঘুতির ছেলে আরব বারঘুতি তার বাবার দীর্ঘ কারাবাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা স্বপ্ন ও আশাকে বন্দি করতে পারবেন না।’জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, কেবল দাতব্য সহায়তা কিংবা স্লোগানের মাধ্যমে দখলদারত্বের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক পরিবর্তন।অন্যদিকে অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথ বলেন, গাজা, ফিলিস্তিন, সুদান, ইয়েমেন ও কঙ্গোর শিশুদের তুলনায় তার নিজের সন্তানদের জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিটি শিশুরই নিরাপদে মায়ের কোলে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এর আগে গত ২৬ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এবং ২৯ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। ডাবলিনের আয়োজনে হোজিয়ার ও নিকনিপসহ বিভিন্ন শিল্পী অংশ নেন। প্যারিসের কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন অরোরা, পম, পর্তুগাল দ্য ম্যানসহ একাধিক শিল্পী।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে একটি কনসার্টে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলার পর এড শিরানের ‘লুপ’ ট্যুরের বাকি আয়োজনগুলো থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়া হয়। এর পরই ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাতে তিনটি ইউরোপীয় শহরে বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করেন তিনি।
/বিএসএস