কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন। তাঁদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে নির্জন ওই সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের মধ্যে রোহান ও জিশান ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। অপরজন আকাশ চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাংলাবাজারের বাসিন্দা। নিখোঁজ দুজন হলেন ঢাকার উত্তরার নিবিড় এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার হারুন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচজন এবং ঢাকা থেকে আসা সাতজন পর্যটক সৈকতে ছিলেন। তাঁদের একজন সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকলে বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করেন। তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন অন্যরা। একপর্যায়ে তাঁরা পরস্পরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
কিন্তু হঠাৎ বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তাঁদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকজন একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে যান।
নিহত রোহানের খালু মো. জাহিদ বলেন, তাঁরা সমুদ্রে গোসল করতে নেমেছিলেন। তাঁদের থেকে কিছুটা দূরে থাকা এক পর্যটক পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন তাঁর চার-পাঁচজন বন্ধু তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে যান।
জাহিদ বলেন, একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাঁরা ওই পর্যটককে টেনে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু উদ্ধারের চেষ্টা চলার সময় হঠাৎ বড় একটি ঢেউ আছড়ে পড়ে। তখন তাঁরা পানির নিচে পা রাখতে পারছিলেন না। ঢেউয়ের ধাক্কায় একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সবাই স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন।
পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবু জাফর বলেন, সাঁতার জানেন না এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাঁতার জানা ব্যক্তিদেরও বঙ্গোপসাগরের মতো উত্তাল সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
আবু জাফর জানান, পর্যটকেরা সাঁতার জানেন কি না, তা তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা কেউই সাঁতার জানেন না বলে জানান। এরপর সাঁতার না জেনে সমুদ্রে নামার কারণ জানতে চাইলে পর্যটকেরা তাঁকে বলেন, ‘তারা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন সেখান থেকে জানানো হয়েছিল, সেখানে নামলে কোনো সমস্যা হবে না।’
রামুর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও রামু থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও পর্যটকেরা ওই স্থানে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটলে অন্য পর্যটকেরা তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের মালিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও রয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রিসোর্টগুলোর নিয়মকানুন না মানা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
/এএসএফ