• ঢাকা
  • বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ পিএম


যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত, পরিত্যক্ত গির্জাকে মসজিদ বানিয়ে ইতিহাস বাঁচালেন মুসলিমরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইউটিকা শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা। পরিত্যক্ত একটি পুরোনো গির্জা ভেঙে ফেলার পরিবর্তে সেটিকে মসজিদে রূপান্তর করেছেন তাঁরা। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রক্ষা পেয়েছে দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।ইউটিকার ৩০৬ কোর্ট স্ট্রিটে অবস্থিত ভবনটি ১৮৬৯ সালে নির্মিত হয়েছিল। শুরুতে এটি মেথডিস্ট খ্রিষ্টানদের উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সময়ের সঙ্গে ভবনটি সেন্ট্রাল মেথডিস্ট এপিসকোপাল গির্জা এবং ট্রিনিটি মেথডিস্ট গির্জা নামেও পরিচিতি পায়।ঊনবিংশ শতকের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ভবনটিতে ছিল ইটের দেয়াল, খিলানযুক্ত জানালা ও উঁচু চূড়া। একসময় ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও পরবর্তী সময়ে গির্জাটিতে নিয়মিত উপাসনায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কমতে থাকে।একপর্যায়ে গির্জাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণও ব্যাহত হয়। ২০০৬ সালের দিকে এটি শহর কর্তৃপক্ষের মালিকানায় আসে। এ সময় ভবনটির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন অংশে পানি জমার সমস্যাও দেখা দেয়।এমন পরিস্থিতিতে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।২০০৮ সালে ইউটিকার বসনীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা ভবনটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। তাঁদের সংগঠন বসনীয় ইসলামী সমিতি স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিল। পুরোনো গির্জাটি সেই প্রয়োজন পূরণের সুযোগ তৈরি করে দেয়।পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি ভবনটি কিনে নেয় এবং সেটিকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ শুরু করে।২০০৮ সালের মার্চে প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে ভবনটি বিক্রির বিষয়ে শহর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার তথ্য উঠে এসেছিল। সে সময় ইউটিকার মেয়র ডেভিড রোয়ারকাও প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করেন। পরিত্যক্ত স্থাপনাটি নতুনভাবে ব্যবহার করা গেলে একদিকে যেমন শহরের রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত ব্যয় কমানোর সুযোগ ছিল, অন্যদিকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় উপাসনালয়ও তৈরি করা সম্ভব হতো।এভাবেই একটি পুরোনো গির্জা নতুন পরিচয়ে মসজিদে রূপ নেয়। স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বজায় রেখে এর ব্যবহার পরিবর্তনের উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও সুযোগ তৈরি করেছে।

/বিএসএস