• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম


মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, যেভাবে সম্পন্ন হবে পুরো প্রক্রিয়া

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৩০ এএম

মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া।

তবে নির্ধারিত কিছু নিয়ম মেনেই এসব কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। এ ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

যেসব ধাপে পরিচালিত হবে নিয়োগপ্রক্রিয়া

জব অর্ডার সংগ্রহ: মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপ্রাপ্ত সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি নিজেদের উদ্যোগে দেশটির শ্রমবাজার থেকে জব অর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে।

কর্মী নির্বাচন: যে রিক্রুটিং এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সিই বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ কর্মী সংগ্রহ ও বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছেই থাকবে।

মালয়েশিয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া: মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যেসব প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা প্রয়োজন হবে, সেগুলোতে সহায়তা দেবে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং তালিকাভুক্ত অন্য ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া।

বিএমইটি ছাড়পত্র: মালয়েশিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করবে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি নিজেদের রিক্রুটিং লাইসেন্স ব্যবহার করেই নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ যে এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে এবং কর্মী নির্বাচন করবে, সেই এজেন্সিই নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে কর্মীদের বাংলাদেশের সরকারি ছাড়পত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।

অন্যদিকে, বোয়েসেল এবং তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজে সহায়তা করবে। বিএমইটির ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য তারা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহি এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ

সরকার জানিয়েছে, পুরো নিয়োগব্যবস্থার প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে বাংলাদেশের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি কর্মীদের ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

একজন কর্মী যাতে যথাসম্ভব কম খরচে, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় চাকরির সুযোগ পান, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে নতুন জব অর্ডার সংগ্রহ করতে হবে এবং আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তবে এসব কার্যক্রম অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে পরিচালনা করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের জন্য নির্দেশনা

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগও থাকবে।

এ ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। কর্মীরা যাতে সহজে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, কোনো ধরনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

/এসএন