• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম


ডাকসুর সহযোগিতায় উদ্ধার হলো ঢাবির তিন শিক্ষার্থীর মোবাইল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭:০৭ পিএম

দীর্ঘদিন আগে চুরি হয়ে যাওয়া মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের উদ্যোগ এবং ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সাইবার ক্রাইম পুলিশের সহযোগিতায় ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টায় যাচাই-বাছাই শেষে উদ্ধার হওয়া ফোনগুলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর নিজেদের হারানো মুঠোফোন ফিরে পেয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।

ফোন ফিরে পাওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাইদুল ইসলাম ইফাস, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. রাকিব হোসেন এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জয়নাল আবেদীন। তাঁদের মুঠোফোন যথাক্রমে ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের ২ আগস্ট চুরি হয়েছিল।

ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন বাধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতির চেয়েও শতগুণ বেশি কাজ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিন শিক্ষার্থীর হারানো ফোন উদ্ধার হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সহযোগিতা এবং ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সমন্বয়ের মাধ্যমে ফোনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফোন ফিরে পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখে তিনি খুশি হয়েছেন বলেও জানান। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করাই ডাকসুর কাজ।

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে পাওয়া টাকা জমিয়ে মুঠোফোন কেনেন। কিন্তু চুরি, ছিনতাই কিংবা অসাবধানতার কারণে ফোন হারিয়ে গেলে তাঁদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ডাকসু। সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরাসরি সমন্বয় ও যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাঁদের সমস্যার কথা জানানোর পর আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শুরু করেন তাঁরা। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই তিন শিক্ষার্থীর চুরি হওয়া মুঠোফোন উদ্ধার করে তাঁদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ফোন উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সাইবার ক্রাইম পুলিশের অধিনায়ক রেজাউল করিমকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান মুসাদ্দিক। তিনি বলেন, রেজাউল করিম মল্লিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের সহযোগিতা করে আসছেন। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের হাতে তাঁদের হারানো ফোন ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের মুখের হাসিকেই এ কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

/এসএন