• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ এএম


হু/তি বি/দ্রো/হীদের হা/মলার মুখে এ–প্রাসাদ থেকে ও–প্রাসাদ—দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭:১৪ এএম

হুতি হামলার মুখে সৌদি যুবরাজ, বাংকারযুক্ত প্রাসাদে দফায় দফায় স্থানান্তরইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তাঁকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বাংকার সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠায় তাঁকে জনসম্মুখ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে বাছাই করা একটি নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। গত এক দশকে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে। রিয়াদের ‘মক্কা চুক্তি’র মিত্ররাও সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।এ বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, হুতিদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে।সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার মাত্রা বিবেচনায় সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও সমপর্যায়ের কঠোর হবে। তবে দেশটির কর্মকর্তারা গোপনে স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিক হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে।দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হলে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।হুতিদের অভিযোগ, সানা বিমানবন্দর থেকে তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে তেহরানগামী একটি ইরানি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের চেষ্টা করলে সৌদি বাহিনী গুলি চালায়। এ ঘটনার পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরব উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংঘাতের ফলে শুধু ‘ইসরায়েল সরকারই লাভবান হবে’।উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধানের পথ এড়িয়ে কেবল সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করার বিষয়ে রিয়াদকে সতর্ক করেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সৌদি আরব সরাসরি গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার পর থেকেই হুতিদের সঙ্গে রিয়াদের দীর্ঘ সংঘাতের সূচনা হয়। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

/বিএসএস