যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বাড়ছে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা, নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেইযুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ, আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা এবং জীবনে বিশ্বাসের ভূমিকা অনেক বন্দিকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির কারাগারগুলোতে প্রতি বছর বহু বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন। প্রতিবেদনে তাইবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রামি নুসুরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দিদের দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ইসলামী শিক্ষা দিয়ে আসছে।রামি নুসুর জানান, তাঁর সংস্থা ১৩ হাজারের বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর অনুমান, এসব মানুষের প্রায় ৯০ শতাংশ ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের অধিকাংশই কারাগারে থাকাকালে এই ধর্ম গ্রহণ করেন।কারাগারে বন্দিদের ইসলাম গ্রহণের পেছনে আধ্যাত্মিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এবং ধর্মীয় অনুশীলনের ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ ইসলামের বিভিন্ন অনুশীলন বন্দিদের জীবনে শৃঙ্খলা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়তা করে বলেও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে কতজন বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তার সুনির্দিষ্ট জাতীয় পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন পুরোনো হিসাব ও অনলাইন প্রতিবেদনে মুসলিম বন্দির সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অনুমান রয়েছে। কোথাও কয়েক লাখ মুসলিম বন্দির কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও প্রতি বছর কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার বন্দির ইসলাম গ্রহণের দাবি করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ধর্মীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই নির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া ইসলাম গ্রহণকারী বন্দির প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা কারাবন্দিদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করা কিছু বন্দি ধর্মীয় বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজেদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন।
সূত্র: সিবিএস নিউজ, পিউ রিসার্চ সেন্টার
/বিএসএস