৭৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে না করায় যুবকের বিরুদ্ধে ৬ মামলাযশোরে ৭৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আড়াই বছর ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তামিম আবু উমামা নামে এক যুবক। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তামিম।রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। এ সময় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তামিম।লিখিত বক্তব্যে তামিম জানান, তিনি যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া, ঢাকা রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। প্রায় আড়াই বছর আগে পূর্ব বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা হয়। তবে আনোয়ার হোসেন ৭৫ লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করায় তারা বিয়ের প্রস্তাব থেকে সরে আসেন। এরপর থেকেই আনোয়ার হোসেন, তার মেয়ে ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।তামিমের দাবি, বিয়ের প্রস্তাব থেকে সরে আসার পর গত আড়াই বছরে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলা আদালতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বাকি মামলাগুলোও মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তামিম।সংবাদ সম্মেলনে গত ৮ অক্টোবরের একটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে তামিম অভিযোগ করেন, ওই দিন দুপুর ১টা ৫ মিনিটে অফিসে যাওয়ার পথে নীলগঞ্জ ভিসা অফিসের সামনে আনোয়ার হোসেনের লোকজন তার গাড়ির গতিরোধ করেন। এ সময় তার ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটির ভিডিও তার মুঠোফোন ও গাড়ির ড্যাশ ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে বলেও জানান তামিম।এর আগে গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তামিমের ভাষ্য, এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষতিসাধন করা হয়। ঘটনার সময় কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।তামিম আরও জানান, যশোর সদর থানায় ২০২৫ সালের ২৯ জুন তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। এ ছাড়া তাদের করা একটি মানহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য এক প্রভাবশালী আত্মীয়ের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তারা চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তামিম বলেন, যেকোনো সময় তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন ও অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
/বিএসএস