রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর সেখানে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় মোট ২ হাজার ১০০ পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছেন। আকস্মিকভাবে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ভোগান্তিতে পড়েন সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকেরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে প্রায় ১ হাজার ২৫০ পর্যটক খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছান। পরে আটকে পড়া আরও প্রায় ৮৫০ পর্যটককে সোমবার (১২ অক্টোবর) খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। সাজেক এলাকায় দুই আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার আগে অনেক পর্যটক বিষয়টি জানতে পারেননি। ফলে তাঁরা সাজেকে পৌঁছানোর পর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে সেখানে আটকা পড়েন।
আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়। পর্যটকদের দলবদ্ধভাবে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে আটকে পড়া ২ হাজার ১০০ পর্যটককে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শেষ হয়।
এর আগে প্রশাসনের আশ্বাসে দুই দিনের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। প্রায় ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রোববার বিকেলে সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবরোধের কারণে সাজেক ও খাগড়াছড়ির মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটক এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল।
দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে সাজেকে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময়ে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্তে পর্যটকদের পাশাপাশি হোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে আগাম বুকিং দেওয়া পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।
নতুন করে সাজেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
/এএসএফ