• ঢাকা
  • রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ এএম


যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গির্জা কিনে মসজিদ বানাচ্ছেন বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৭:০৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী ছোট শহর লকপোর্টে একটি পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। একসময় যে ভবনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা করতেন, সেই স্থাপনায় এখন মুসলমানদের নামাজ আদায় ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।লকপোর্ট শহরের ওই পুরোনো গির্জাটিতে বর্তমানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ চলছে। ভবনটির বাইরে মসজিদের নামসংবলিত সাইনবোর্ডও দেখা গেছে। গত ৩১ আগস্ট শহরটিতে গিয়ে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের এই কার্যক্রম চোখে পড়ে। উদ্যোগটির পেছনে রয়েছেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওসমান।লকপোর্ট নিউইয়র্কের নায়াগ্রা কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক ইরি খালের পাশে অবস্থিত শহরটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তের কাছাকাছি। সময়ের পরিবর্তনে শহরটির বেশ কিছু পুরোনো গির্জায় নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এসব অব্যবহৃত ধর্মীয় স্থাপনার কোনো কোনোটি বিক্রির জন্যও বাজারে তোলা হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম লুপনেটেও লকপোর্টের সাবেক গির্জা ভবন বিক্রির বিজ্ঞাপনের উল্লেখ রয়েছে।এমনই একটি পুরোনো ভবনকে নতুনভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন মোহাম্মদ ওসমান। তাঁর লক্ষ্য, স্থাপনাটিকে মুসলমানদের ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে তোলা। তবে গির্জাটি কত দামে কেনা হয়েছে, সংস্কারকাজ শেষ হতে কত দিন লাগবে কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে কবে মসজিদের কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।কে এই মোহাম্মদ ওসমান?মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের বাসিন্দা। নিউইয়র্ক সিটির পর অঙ্গরাজ্যটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর বাফেলোতে গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০০৬ সালের পর নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি পরিবারগুলো বাফেলোতে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে।তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, সাশ্রয়ী আবাসন এবং বড় বাড়ি কেনার সুযোগ শহরটিকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শহরটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিসরেও।বাফেলোতে পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনার নতুন ব্যবহারবাফেলোর ইস্ট সাইড এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অব্যবহৃত গির্জা ভবনকে নতুন ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের নজির রয়েছে। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির উদ্যোগেও সেখানে একাধিক মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, যা মসজিদ বাইতুল আমান নামেও পরিচিত। ওয়ালডেন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।বাফেলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির ধারাবাহিকতায় লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অব্যবহৃত একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে নতুন সম্প্রদায়ের ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার চিত্র তুলে ধরে।

/বিএসএস