• ঢাকা
  • রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ এএম


বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ, মেট্রোর ৫৭ স্টেশনেও বিধিনিষেধ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৪৪ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের আশপাশের চার কিলোমিটার এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বিধিনিষেধ এবং দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ উপকমিশনারের (ডিসিপি) কার্যালয় থেকে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলের উদ্দেশে জারি করা আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ইন্টারনেট বন্ধের আওতায় আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জাংপুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

এর আগে গত জুলাইয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে আন্দোলনকারী তরুণদের পাশাপাশি বিক্ষোভের ভিডিও ধারণকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি মেট্রো ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগে জানানো হয়েছিল, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে রাজীব চক, নতুন দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নতুন দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন ৬০টিরও বেশি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

তবে এসব বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সকালে দিল্লি মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানিতে আদালত বলে, সবকিছু অচল করে দেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না।

আদালত আরও বলে, তরুণ থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ যাতায়াত করেন। সাধারণ যাত্রীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো কিছু সীমিত করা এবং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে।

ইন্টারনেট বন্ধ, মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং দূরপাল্লার ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেই সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এএসএফ