রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাতে মস্কোর দিকে প্রায় ৬৫০টি ড্রোন পাঠানো হয়। হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়িঘর ও যানবাহন। একটি বড় জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগার খবরও পাওয়া গেছে। খবর আল জাজিরা ও রয়টার্সের।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাতভর প্রায় ৬৫০টি ড্রোন মস্কোর দিকে এগিয়ে আসে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোনের বেশিরভাগই দূরপাল্লায় ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, রাদুমলিয়া ও বারবিবিনো এলাকায় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় ৪৭টি বাড়ি, চারটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও তিনটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মস্কো অঞ্চলের আকাশে ১৮৫টি ড্রোন ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছেন তিনি।
হামলায় আহতের সংখ্যা নিয়ে প্রাথমিক ও পরবর্তী প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে অন্তত সাতজন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে রুশ যুদ্ধবিষয়ক ব্লগার ইউরি পোদোলিয়াকা দাবি করেছেন, মস্কো অঞ্চলের বড় তেল সংরক্ষণ ও বিতরণকেন্দ্র ভোলোদারস্কায়ায় একটি তেলের ট্যাংকে ড্রোন আঘাত করেছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ওই স্থাপনাটি মস্কো অঞ্চলের অন্যতম বড় জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিতরণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ইউক্রেনীয় সূত্র ও যুদ্ধবিষয়ক ব্লগে ওই স্থাপনায় বড় ধরনের আগুনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও রয়টার্স জানিয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো ও রপ্তানি টার্মিনালসহ বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করার বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়াও কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। উভয় পক্ষের দূরপাল্লার হামলা বাড়ার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি। জাতিসংঘও বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
/এএসএফ