খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবার মুখে পাউরুটি তুলে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা সেই শিশু তুবা অবশেষে আবার বিদ্যালয়ে ফিরেছে। দীর্ঘ প্রায় চার মাস বিদ্যালয়ের বাইরে থাকার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে তাকে স্কুলে নিয়ে যান বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা।তুবা উজিরপুর উপজেলার বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিন সকালে ইউএনও নিজে তুবাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়রা তাকে স্বাগত জানান। দীর্ঘ বিরতির পর সহপাঠীদের মাঝে ফিরতে পেরে তুবাকেও আনন্দিত দেখা যায়।বিদ্যালয়ে গিয়ে ইউএনও মো. আলী সুজা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তুবার পড়াশোনা যেন আর বন্ধ না হয় এবং সে যেন স্বাভাবিক পরিবেশে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা চান তিনি।ইউএনও বলেন, সমাজের সব অসঙ্গতি একসঙ্গে দূর করা সম্ভব না হলেও একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিয়ে অন্তত একটি উদাহরণ তৈরি করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে।সম্প্রতি তুবার বাবা অনিক সরদারকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। চুরির অভিযোগে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইল বাজারে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছিল বলে জানা যায়।পরদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তার নয় বছর বয়সী মেয়ে তুবা। বাবাকে বাঁধা অবস্থায় দেখে সে তাকে আর মারধর না করার জন্য উপস্থিত লোকজনের কাছে অনুরোধ করে। পরে বাবার জন্য চা ও পাউরুটি এনে নিজের হাতে খাওয়ায় তুবা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবার মুখে তুবা পাউরুটি ছিঁড়ে চায়ে ভিজিয়ে তুলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাবার শরীরে হাত বুলিয়ে দিতে এবং তার ব্যথার কথা জানতে চাইতে দেখা যায় তাকে। শিশুটির এমন মমতার দৃশ্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়। তুবার বাবাকে চিকিৎসার জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। এদিকে তুবার পড়াশোনা যাতে আর বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে। চার মাস পর ইউএনওর সঙ্গে বিদ্যালয়ে ফিরে নতুন করে শ্রেণিকক্ষে বসার
/বিএসএস