• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ এএম


৩৫ ও ৬৫ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের হাফেজ হলেন দুই ভারতীয়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ অক্টোবর ২০২৬ ৮:৩০ পিএম

বয়স যে পবিত্র কুরআন হিফজের পথে বাধা হতে পারে না, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভারতের দুই ব্যক্তি। ৩৫ বছর বয়সী আজিম আনসারী এবং ৬৫ বছর বয়সী ইউসুফ আনসারী পূর্ণ পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।তাঁদের এই অর্জনকে সম্মান জানাতে সোমবার এশার নামাজের পর ফিরদৌস নগর জামে মসজিদে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আজিম আনসারী ২০২২ সালে ৩১ বছর বয়সে ওই মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর হাফেজ হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে পরিবারের দায়িত্বও বেড়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন দীর্ঘদিন পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এর আগে তিনি মলভিগঞ্জের ‘মাদরাসা সিরাজ-উল-উলুম’ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শেখেন।আজিম বলেন, যখনই তিনি নবীন হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন, তখন তাঁর নিজের হাফেজ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আবারও জেগে উঠত। পরে তিনি জানতে পারেন, ফিরদৌস নগর জামে মসজিদে বয়স্কদের জন্য কুরআন তিলাওয়াত, তাজবিদ ও হিফজের ক্লাস চালু হয়েছে। এরপর তিনি দেরি না করে সেখানে ভর্তি হয়ে যান।দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসার পাশাপাশি কুরআন হিফজের পড়া চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তিন সন্তানের জনক আজিম মলভিগঞ্জে নিজের ডেইরি ও মিষ্টির দোকান একাই পরিচালনা করেন।তিনি জানান, দোকানে কাজ করার সময় মোবাইল ফোনে কুরআনের তিলাওয়াত বাজিয়ে রাখতেন এবং সেখান থেকেই প্রতিদিনের পাঠ মুখস্থ করার চেষ্টা করতেন। রাতে আনুমানিক ১টার দিকে দোকান বন্ধ করার পর তিনি কুরআন শরীফ নিয়ে বসতেন। এ সময় দিনের পড়া ঝালাই করার পাশাপাশি ভুলগুলো সংশোধন করতেন। পরদিন সকালে সেই পড়া উস্তাদের কাছে শুনিয়ে দিতেন।টানা চার বছর ধরে তিনি এই কঠোর রুটিন অনুসরণ করেছেন।আজিম আরও জানান, ৬৫ বছর বয়সী ইউসুফ আনসারীকে কুরআন হিফজ করতে দেখে তিনি বাড়তি সাহস ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।ইউসুফ আনসারী স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি জীবনের বাকি সময় কুরআন মুখস্থ করার কাজে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন।তবে কোভিড-১৯ মহামারি ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে তাঁর পড়াশোনা একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে তিনি ২ থেকে ৩ পারা কুরআন হিফজ করেছিলেন। পরে ফিরদৌস নগর জামে মসজিদের বয়স্কদের হিফজ কোর্সের বিষয়ে জানতে পেরে তিনি আবার নতুন করে হিফজ শুরু করেন।ইউসুফ আনসারী নিয়মিত মাদরাসায় যেতেন, উস্তাদের কাছ থেকে নতুন সবক নিতেন এবং পরদিন তা শুনাতেন। তিনি জানান, প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর তিনি হিফজের পড়া অনুশীলন করতেন। প্রতিদিন কুরআন মুখস্থ করার পেছনে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় দিতেন।তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাঁদের সবাই বিবাহিত।মাকাতাইব ওলামা কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল আলিম জানান, তাঁদের সংস্থা শহরের চারটি মসজিদে বয়স্কদের জন্য দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করছে। মসজিদগুলো হলো—ফিরদৌস নগর জামে মসজিদ, ঘড়িয়াল মসজিদ, বান্দা নওয়াজ মসজিদ এবং আলী মোস্তফা মসজিদ।তিনি জানান, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব কেন্দ্রে কুরআন ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় শিখতে আসেন।উভয় হাফেজের প্রশংসা করে মাওলানা আব্দুল আলিম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা হিফজ সম্পন্ন করতে যতটা সময় নেয়, এই দুজনও প্রায় একই সময়ের মধ্যে পুরো কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছেন।

/বিএসএস